কেশবপুর অভিযুক্ত সুদ ব্যবসায়ীর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন



নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর, ২ জুলাই।
কেশবপুর শহরের এস এম আব্দুল্লাহ ওরপে তপু মঙ্গলবার দুপুরে কেশবপুর প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার তার বিরুদ্ধে সুদ ব্যবসার অভিযোগে অপর ব্যবসায়ী স্টিফেন বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তপু জানান, তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে কেশবপুর শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ে সুনামের সাথে মোবাইল ও বিকাশের ব্যবসা করছেন। ব্যবসা করাকালীন তার বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরী হয়। চাকরী করার কারণেই তিনি কর্মচারী দিয়ে মোবাইল ও বিকাশের ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তার পার্শ্ববর্তী দোকানদার ফাস্ট চয়েস ফ্যাশন ও গার্মেন্টস এবং আমার ক্যাফের মালিক বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত বাবুরাম বিশ্বাসের ছেলে ষ্টিফেন বিশ্বাস ব্যবসায়ীক কারণে তার সাথে বিকাশের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করত। যে কারণে তার সাথে আমার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুবাদে তার ব্যবসার কারণে টাকার বিশেষ প্রয়োজন হওয়ায় আমার নিকট থেকে স্টিফেন বিশ্বাস পর্যায়ক্রমে গত ২০১৮ সালের ১ মে ১লাখ, ১৪ মে ১লাখ ৫০ হাজার, ৯ সেপ্টেম্বর ১ লাখ, ১৬ সেপ্টেম্বর ৪ লাখ ও ১৬ অক্টোবর ২ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ১০ লাখ টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করে। যা আমার সিসি এ্যাকাউন্ট থেকে ৬ লাখ ও ডিপিএস থেকে লোন করে ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করে তাকে দিই। এভাবে পর্যায়ক্রমে সে ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করার পর টাকা পরিশোধ করার জন্য স্টিফেন বিশ্বাস চলতি বছরের গত ১৮ এপ্রিল তার নামিয় সোনালী ব্যাংক কেশবপুর শাখার একটি ১০ লাখ টাকার চেক আমাকে প্রদান করে। যার হিসাব নং-২৩২০০৫৩০০০০৩৩, চেক নং-৪৭৫০৬৯৪। কিন্তু ১৮এপ্রিল চেকটি সোনালী ব্যাংকে নিয়ে গেলে তার এ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় আমি চেকটি ডিজঅনার করতে চাইলে ব্যাংক ব্যবস্থাপক স্টিফেন বিশ্বাসকে এ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেয়ার জন্যে ফোন করেন। স্টিফেন বিশ্বাস টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যবস্থাপক চেকটি ডিজঅনার করেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার করার খবর জানতে পেরে স্টিফেন বিশ্বাস কেশবপুর থানায় আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করেন। এ সময় থানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আপোষ মিমাংসা করে নিতে বলায় নিজেরা মিমাংসা করে আপোষনামার কপি থানায় জমা দেয়া হয়। এরপর আমার টাকা পরিশোধ না করে স্টিফেন বিশ্বাস ডিজঅনার করা চেকটি ফেরৎ চায় এবং টাকা পরিশোধের জন্যে কিছুদিন সময় চায়। সে ডিজঅনার চেকটির একটি ফটোকপি চেয়ে নিয়ে ২৯ এপ্রিল বসে কখন টাকা পরিশোধ করা হবে তার একটি চুক্তিপত্র ও নতুন একটি চেক প্রদান করব। এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে সে আমাকে ৫ মে কেশবপুর সোনালী ব্যাংক শাখার হিসাব নং- ০০১০১৮৫২৬, চেক নং- ৬৯৮০০১৪ এর ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করে। স্টিফেন বিশ্বাসের আর কোন চেকের পাতা না থাকায় সে আমাকে নগদ টাকা উল্লেখ করে ১৬ জুন ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ৭ জুলাই ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করবে বলে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র করে দেয়। কিন্তু সে দ্বিতীয় দফায়ও টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার দেয়া ওই ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চেকটিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ডিজঅনার করেন। আমার টাকা আদায়ের স্বার্থে আমি ১২জুন ও ১৬ জুন আইনজীবীর মাধ্যমে দুটি লিগ্যাল নোটিস প্রেরণ করি। লিগ্যাল নোটিস পাবার পর স্টিফেন বিশ্বাস আমার সুনাম ক্ষুন্নসহ টাকা পরিশোধ না করার জন্য গত ১জুলাই কেশবপুর প্রেসক্লাবে একটি কাল্পনিক মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ সম্মেলন করেছে। যা ২ জুলাই বিভিন্ন পত্রিকায় খবর পরিবেশিত হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবারের সম্মানহানি ঘটানো হয়েছে বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।   
সোমবার অপর ব্যবসায়ী স্টিফেন বিশ্বাস কেশবপুরের ১০ ব্যবসায়ীকে নিয়ে কেশবপুর প্রেসক্লারে সংবাদ সম্মেলন করে তপুর বিরুদ্ধে সুদের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, সুদের টাকার জন্য তারা ১০ ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা এক লাখ টাকার জন্য ঘন্টায় এক হাজার টাকা হারে সুদ দিয়েও সুদখোর তপুর হাত থেকে রেহায় পাচ্ছেন না।

কবির হোসেন